দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রথম ধারণার চেয়েও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশ, যা বর্তমানে প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল, সেখানকার বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘আক্রান্তরা খুব দ্রুত মারা যাচ্ছে। ইবোলা আমাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালাচ্ছে।’
ডিআর কঙ্গোতে এখন পর্যন্ত ইবোলায় ১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে ৫১৩টির বেশি সন্দেহভাজন সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া প্রতিবেশী উগান্ডাতেও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
ডব্লিউএইচও’র কর্মকর্তা ডা. অ্যান আনসিয়া বলেন, ‘যত তদন্ত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে সংক্রমণ সীমান্ত ও অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে।’
লন্ডনভিত্তিক এমআরসি সেন্টার ফর গ্লোবাল ইনফেকশাস ডিজিজ অ্যানালাইসিসের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা বর্তমানে শনাক্ত হওয়া সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। গবেষণায় এক হাজারের বেশি সংক্রমণের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
ইতুরি প্রদেশের বাসিন্দা ‘বিগবয়’ নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি বলেন, মানুষ খুব আতঙ্কিত। তারা পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত ধোয়ার মতো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তবে ফেস মাস্কের মতো সুরক্ষা সামগ্রীর অভাব রয়েছে।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আলফ্রেড গিজা বলেন, ‘মানুষ ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন। কিন্তু পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে কী করতে হবে, তা অনেকেই জানেন না।’
রেড ক্রস সতর্ক করে জানিয়েছে, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা না গেলে, জনসচেতনতা কম থাকলে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা চাপের মুখে পড়লে ইবোলা দ্রুত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার ডিআর কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদি জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেন, ‘মহামারির বিস্তার ও গতি নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’ তার আশঙ্কা, ২৪ এপ্রিল প্রথম শনাক্ত হওয়ার আগেই কয়েক সপ্তাহ ধরে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছিল।
বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া বান্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা ভাইরাসের কোনো অনুমোদিত টিকা নেই। তবে বিকল্প ওষুধ কার্যকর হতে পারে কি না, তা পরীক্ষা করছে ডব্লিউএইচও।
ডা. আনসিয়া বলেন, ইতুরি অঞ্চলটি অত্যন্ত অনিরাপদ এবং সেখানে মানুষের চলাচল বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। সংক্রমণ দক্ষিণ কিভু প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সংকট চলছে।
পূর্ব কঙ্গোর বৃহত্তম শহর গোমাতেও সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া গেছে। প্রায় সাড়ে আট লাখ মানুষের এই শহর বর্তমানে রুয়ান্ডা-সমর্থিত বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সংক্রমণ ঠেকাতে আফ্রিকার কয়েকটি দেশ সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। রুয়ান্ডা কঙ্গোর সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। উগান্ডা নাগরিকদের করমর্দন ও আলিঙ্গন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিক, যিনি মিশনারি চিকিৎসক পিটার স্ট্যাফোর্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে, উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তাকে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নেওয়া হচ্ছে। আরও অন্তত ছয়জন মার্কিন নাগরিককে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা স্থানীয় সরকার ও জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে কাজ করছে। উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইবোলা ভাইরাসজনিত রোগ। শুরুতে জ্বর, মাথাব্যথা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে বমি, ডায়রিয়া এবং অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে শরীরের ভেতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণও হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, বমি বা শরীরের অন্যান্য তরলের সংস্পর্শে এ ভাইরাস ছড়ায়।
বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া বান্ডিবুগিও ধরনটি বিরল। এর আগে মাত্র দুটি প্রাদুর্ভাবে এ ধরনের ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল এবং আক্রান্তদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের মৃত্যু হয়েছিল।
২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাবে ২৮ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হন এবং ১১ হাজার ৩২৫ জন মারা যান। সে সময়ের প্রাদুর্ভাবটি জায়ার ধরনের ভাইরাসের কারণে হয়েছিল, যার জন্য বর্তমানে অনুমোদিত টিকা রয়েছে।
এমএস/